Posts

নবীজির (সা) চোখে শ্রেষ্ঠ মানুষ যারা

Image
  নবীজির (সা) চোখে শ্রেষ্ঠ মানুষ যারা চিত্র: কুরআন তেলাওয়াত আমাদের চোখে সেরা মানুষের সংজ্ঞা কী? অনেক পড়াশোনা জানা, অনেক সম্পদের অধিকারী ইত্যাদি। চলুন দেখে নিই আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূলের (সা) চোখে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের গুণাবলীগুলো। রাসূলের (সা) বিভিন্ন হাদীস থেকে সেরা মানুষের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আমরা জানতে পারি। হাদীসগুলো থেকে কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো। ১।তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা সে, যে কুরআন শিখে এবং শেখায়। (বুখারী, পর্ব: ফাজায়েলুল কুরআন, অধ্যায়: ২১ হাদীস নং: ৫০২৭) ২।নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী। (বুখারী, পর্ব: শিষ্টাচার, অধ্যায়: উত্তম চরিত্র, হাদীস নং: ৬০৩৫) ৩।তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় ভালো। (বুখারী, পর্ব: উকীল নিযুক্তকরণ, অধ্যায়: ৬, হাদীস নং: ২৩০৫) ৪।তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যার কাছ থেকে সবাই কল্যান আশা করে, অনিষ্টের আশংকা করে না। ( তিরমিজী, পর্ব: ফিতান, অধ্যায়: ৭৬, হাদীস নং: ২২৬৩/২৪৩২) ৫।তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে, যে তার পরিবারের নিকট ভালো। (ইবনে হিব্বান, পর্ব: বিবাহ, অধ্যায়: স্বামী-স্ত্রীর জীবনাচার,...

সালাতুদ দুহা আদায় করার নিয়ম:

Image
  চলুন আজকে সালাতুদ দুহা আদায় করি  এটি শ্রেষ্ঠতম নফল সালাত চিত্র: সালাতুদ দুহা আদায়  ফরজ-ওয়াজিব নামাজের পর যেই নফল নামাজের ব্যাপারে বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে তা হচ্ছে সালাতুদ দুহা। শ্রেষ্ঠতম নফল সালাত হচ্ছে তাহাজ্জুদের সালাত। শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে সালাতুদ দুহার অবস্থান তাহাজ্জুদের পরপরই। নিয়মিত সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন আমাদের উচিত এ সালাত আদায় করা। তাহলে আস্তে আস্তে এটি সারা মাসের ইবাদতে পরিনত হবে ইনশাআল্লাহ। সালাতুদ দুহা আমাদের কাছে ইশরাক ও চাশতের নামাজ বলে পরিচিত। সূর্যোদয়ের পর থেকে দ্বিপ্রহরের নিষিদ্ধ সময়ের আগ পর্যন্ত এ সালাত পড়া যায়। এই সময়ের মধ্যে আগে বা পরে পড়লে এই সালাতকে আলেমগণ ইশরাক, চাশত নামে অভিহিত করেছেন। মুসলিমস ডে অ্যাপের হোমপেজে সালাতের নিষিদ্ধ সময়ের ডানপাশে, "নফল সালাতের ওয়াক্ত" নামের একটি বাটন আছে। সেখানে ক্লিক করলে সালাতুদ দুহা সহ অন্যান্য নফল সালাতের সময় জানা যাবে। মধ্যাহ্ন বা দুহার সালাত সর্বনিম্ন ২ রাকাত থেকে শুরু করে ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়ার ব্যাপারে হাদীস পাওয়া যায়। এছাড়াও হাদীসের আলোকে এর চেয়ে বেশি পড়ার ব্যাপারেও অনুমোদন রয়েছে। যে যার...

জামায়াত ধরতে মসজিদে দৌঁড়ে যাওয়া

Image
  জামায়াত ধরতে মসজিদে দৌঁড়ে যাওয়া  একটি ভুল কাজ, যা থেকে বিরত থাকা উচিত চিত্র: জামায়াতে নামাজ আদায়  মসজিদে জামাত শুরু হয়ে গেলে বা জামাতের সময় ঘনিয়ে আসলে প্রায়ই আমরা দৌঁড়ে গিয়ে জামাতে সামিল হই। ইমাম যদি রুকুতে থাকেন তাহলে আমাদের দৌঁড়ের গতি বেড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনা ঘটার আশংকাও থাকে। জামাতে সামিল হতে এভাবে দৌঁড়ানো, সরাসরি আল্লাহর রাসূলের (সা) সুস্পষ্ট হাদীসের লংঘন! নিচে অনেকগুলো হাদীসের মধ্য থেকে দুইটি হাদীস উল্লেখ করা হলো।  আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি যে,  ‘‘যখন নামাযের জন্য ইক্বামত (তাকবীর) দেওয়া হয় তখন তোমরা তাতে দৌড়ে আসবে না, বরং তোমরা গাম্ভীর্য-সহকারে স্বাভাবিকরূপে হেঁটে আসবে। তারপর যতটা নামায (ইমামের সাথে) পাবে, পড়ে নেবে। আর যতটা ছুটে যাবে, ততটা (নিজে) পূরণ করে নেবে।’’ (সহীহুল বুখারী ৬৩৬, ৯০৮, মুসলিম ৬০২, তিরমিযী ৩২৭, নাসায়ী ৮৬১, আবূ দাউদ ৫৭২, ৫৭৩, ইবনু মাজাহ ৭৭৫, আহমাদ ৭১৮৯, ৭২০৯, ৭৬০৬, ৭৭৩৫, ২৭৪৪৫, ৮৭৪০, ১০৫১২, ১৩১৪৬, মুওয়াত্তা মালিক ১৫২, দারেমী ১২৮২) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ...

যাকাত প্রদানের গুরুত্ব ও হুশিয়ারি

Image
যাকাত অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় কর্তব্য। চিত্র: যাকাত প্রদান   পবিত্র কোরআনের বহুসংখ্যক আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর এ দায়িত অর্পণ করেছেন। কোরআন শরীফে বহু স্থানে সালাত বা নামাজের নির্দেশের পাশপাশি যাকাত আদায়ের অনুশাসনের কথা বর্ণিত হয়েছে।  যারা যাকাত আদায় করে না আল্লাহ্ তাদেরকে হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন যে,  ‘যারা সোনা রূপা (অর্থ-সম্পদ) পুঞ্জিভূত করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। এমন একদিন আসবে যে দিন সে সব সোনা-রূপা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, তারপর তা দিয়ে তাদের পূর্বাদেশ, মুখমন্ডল ও পিঠ আগুনে ঝলসানো হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা ধনসম্পদ কুক্ষিগতকরণে কালাতিপাত করেছো, কিন্তু তোমরা যাকাত আদায় করোনি। এটি হলো তোমাদের সেই গোনাহের শাস্তি। এখন তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করো।’ (সূরা তাওবা ৩৪-৩৫)   বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স) বলেছেন,  ‘যারা যাকাত আদায় করে না তারা শেষ বিচারের দিন দেখতে পাবে তাদের সেই সব ধন-সম্পদ ভয়ংকর সাপ হয়ে তাদের দেহ জড়িয়ে ধরছে। এসব বিষাক্ত সাপ তাদের দেহকে কঠিনভাবে নি...

কুরআনের কিছু তথ্য

Image
  ইসলামী কিছু সাধারণ- জ্ঞান: ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনে মোট সূরা কতটি? উঃ১১৪ টি। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরার নাম কি? উঃ ফাতিহা। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনে সবচেয়ে বড় সূরা কোনটি? উঃ সূরা বাকারা। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনে সবচেয়ে ছোট সূরা কোনটি?  উঃ সূরা কাওছার। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়াত কোনটি এবং কোন সূরায়?  উঃ সূরা বাকারার ২৮২ নংআয়াত। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনেরর মধ্যে সবচেয়ে ফযিলত পূর্ণ আয়াত কোনটি?  উঃ আয়াতুল কুরশী। ⭕প্রঃফরয নামাযের পর কোন আয়াতটি পাঠ করলে, মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে যেতে কোন বাধা থাকে না?  উঃ আয়াতুল কুরশী। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি পাঠ করলে, কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়? উঃ সূরা মূলক। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান? উঃ সূরা ইখলাস। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার প্রতি ভালবাসা থাকলে, মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?  উঃ সূরা ইখলাস। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি কুরআনের চতুর্থাংশের সমপরিমাণ? উঃ সূরা কাফিরূন। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি জুমআর দিন বিশেষ ভাবে পাঠ করা মুস্তাহাব?  উঃ সূরা কাহাফ। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কো...

খেজুর নিয়ে আল্লাহ কি বলেছেন

Image
খেজুর নিয়ে আল্লাহ কি বলেছেন: চিত্র: খেজুর  রমাদান মাস চলছে। এ মাসে আশা করা যায় আমরা সবাই কমবেশি খেজুর খাই। আজ একটা খেজুর হাতে নিন। তারপর সেটা খেয়ে তার আঁটিটা হাতে রাখুন। দেখবেন সেটা একটা হালকা আবরণে বেষ্টিত। . এরপর সেটার পেটের কাটা অংশের দিকে খেয়াল করলে দেখবেন একটা সুতা আলগা হয়ে আছে। . তারপর পেটের উল্টা দিকের ঠিক মাঝখানে দেখবেন একটা বিন্দু আছে। . চিত্র: খেজুরের কিছু অংশ  এবার নিচের আয়াত তিনটা মনযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন। 🕳️ (এক) وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِن قِطْمِيرٍ (فاطر: 13) “আর তোমরা আল্লাহ ব্যতিত যাদেরকে ডাকো (অন্যকিছু কে সৃষ্টিকর্তা ভেবে পূজা করে যারা ), তারা খেজুরের তুচ্ছ আঁটির আবরণেরও অধিকারী নয়।“ এখানে ‘ক্বিতমির’ শব্দটিই হলো সেই আবরণ যার দ্বারা খেজুরের আঁটি বেষ্টিত থাকে। 🕳️ (দুই) فَمَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَأُولَٰئِكَ يَقْرَءُونَ كِتَابَهُمْ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلا (الإسراء: 71) “যাদেরকে তাদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি ‘ফাতিল’ পরিমানও জুলুম করা হবেনা।“ আর এখানে ‘ফাতিল’ হলো সেই আলগা সুত...

আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন যারা

  আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন যারা আরবি হাদিস  وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ:« سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ في ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إلاَّ ظِلُّهُ: إمَامٌ عَادِلٌ، وَشَابٌّ نَشَأ في عِبَادَةِ الله تَعَالَى، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ بِالمَسَاجِدِ، وَرَجُلاَنِ تَحَابّا في اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيهِ وتَفَرَّقَا عَلَيهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأةٌ ذَاتُ مَنصَبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إنِّي أخَافُ الله، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ، فَأخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ الله خَالِياً فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ .  বাংলা অনুবাদ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না; (তারা হল,) ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা), সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ তাআলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়, সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদসমূহের সাথে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার ...