যাকাত প্রদানের গুরুত্ব ও হুশিয়ারি

যাকাত অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় কর্তব্য।

চিত্র: যাকাত প্রদান 


 পবিত্র কোরআনের বহুসংখ্যক আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর এ দায়িত অর্পণ করেছেন। কোরআন শরীফে বহু স্থানে সালাত বা নামাজের নির্দেশের পাশপাশি যাকাত আদায়ের অনুশাসনের কথা বর্ণিত হয়েছে। 


যারা যাকাত আদায় করে না আল্লাহ্ তাদেরকে হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন যে, 
‘যারা সোনা রূপা (অর্থ-সম্পদ) পুঞ্জিভূত করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। এমন একদিন আসবে যে দিন সে সব সোনা-রূপা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, তারপর তা দিয়ে তাদের পূর্বাদেশ, মুখমন্ডল ও পিঠ আগুনে ঝলসানো হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা ধনসম্পদ কুক্ষিগতকরণে কালাতিপাত করেছো, কিন্তু তোমরা যাকাত আদায় করোনি। এটি হলো তোমাদের সেই গোনাহের শাস্তি। এখন তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করো।’ (সূরা তাওবা ৩৪-৩৫)


 বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স) বলেছেন, 
‘যারা যাকাত আদায় করে না তারা শেষ বিচারের দিন দেখতে পাবে তাদের সেই সব ধন-সম্পদ ভয়ংকর সাপ হয়ে তাদের দেহ জড়িয়ে ধরছে। এসব বিষাক্ত সাপ তাদের দেহকে কঠিনভাবে নিষ্পেষিত করবে, ছোবল দেবে এবং বলতে থাকবে, আমরাই তো তোমাদের আহরিত ধনসম্পদ এবং আমরাই হলাম সেইসব রত্নসম্ভার, যার প্রতি তোমরা এত আসক্ত ছিলে।’ (বুখারী)


 আল্লাহ্ আমাদের ক্ষমা করুন! এহেন ভয়াল শাস্তি হতে আমাদেরকে রক্ষা করুন! ক্ষণিকের এই পার্থিব জীবনে ধন-সম্পদের মালিকানার অতি সংক্ষিপ্ত সুখের জন্য এহেন ভয়ংকর প্রতিফল ডেকে আনা কি কোন বুদ্ধিমানের কাজ? যাকাত আদায় না করে নিজেকে এরকম কষ্টদায়ক শাস্তির সম্মুখীন করার চেয়ে নির্বুদ্ধিতার কাজ আর কী হতে পারে! যিনি আমাদেরকে সম্পদ দিয়েছেন তিনিই এই সম্পদের উপর যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি সর্বদা অনুধাবন করতে হবে যে, দেয়ার শক্তি যার, তাঁরই রয়েছে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষমতা, যার মাধ্যমে তিনি এমন ব্যক্তিকে ইহলোকে চরম নিঃস্ব এবং পরকালে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করতে পারেন। তাই কারোরই যাকাত আদায়ে অবহেলা করা উচিৎ নয়। বরং আমাদের উপর তা ফরজ হবার সাথে সাথেই আমাদের যাকাত আদায় করা পরম কর্তব্য।

Comments

Popular posts from this blog

খেজুর নিয়ে আল্লাহ কি বলেছেন