দাড়ি রাখা কি সুন্নাত নাকি ওয়াজিব?
পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা কি সুন্নাহ নাকি ওয়াজিব?
দাড়ি কাটলে বা শেভ করলে কি গুনাহ হবে?
দাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়-চিহ্ন হিসেবে গণ্য। দাড়ি লম্বা করা এবং মোচ খাটো করা দ্বীনে তাওহীদের শিক্ষা, যা সকল নবীগণের (আঃ) শরীয়তে ছিল। দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েয।
যেহেতু দাড়ি রাখা সকল নবীর পবিত্র রীতি ছিল তাই একে ‘সুন্নত’ও বলা হয়। এতে কারো কারো ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, দাড়ি লম্বা করাও অন্যান্য সাধারণ সুন্নতের মতো একটি সুন্নত। অতএব তা করলে ভালো, না করলেও গুনাহ নেই! এটা একদম ভুল ধারণা।
দাড়ি এমন কোনো সুন্নত নয়, যা রাখা-না রাখার স্বাধীনতা রয়েছে। এটা একটা ‘সুন্নতে ওয়াজিবা’। অর্থাৎ সুন্নতে মুয়াক্কাদা থেকেও এর গুরুত্ব বেশি এবং এটা পরিত্যাগ করলে গুনাহ হয়।
দাড়ি কামানো বা এক মুষ্ঠি থেকে ছোট রাখা এমন এক গুনাহ, যা মানুষের সঙ্গে সর্বদা সংযুক্ত থাকে এবং এমন একটি গুনাহ, যা গোপন করারও কোনো উপায় নেই। প্রতি মুহূর্তে এটার জন্য গুনাহ লেখা হতে থাকে। এটা একটা প্রকাশ্য গুনাহ, যা খুবই ভয়াবহ। তদুপরি দাড়ির সঙ্গে এই আচরণটা করা হয় সুন্নতের প্রতি অনীহা এবং অনৈসলামিক ফ্যাশনের প্রতি আকর্ষণের কারণে। এ অবস্থায় ব্যক্তির ঈমানের ব্যাপারেই শঙ্কিত হতে হয়।
আমরা যারা দাড়ি ছোট করি বা শেভ করি তারা এর বিনিময়ে আসলে কী পাই? প্রিয় ভাই আমার! যারা এখন পর্যন্ত নবীজির (সা) এ গুরুত্বপূর্ণ আমলের অনুসরণ করছি না। চোখটা বন্ধ করে নিজেকে একটু প্রশ্ন করি। কী পাই আমরা দাড়ি কেটে? দুনিয়া বা আখিরাতের নূন্যতম কোনো লাভ কি এতে আছে? কেউ চুরি করলে, ঘুষ খেলে সে অন্তত দুনিয়াতে কিছু পেল। একজন পুরুষ দাড়ি কাটলে, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করলে এর বিনিময়ে সে কী পাওয়ার আশা করে পরকালের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ছাড়া? আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমীন।
অনেক ভাই আছেন, যারা রমজান মাস আসলে দাড়ি কাটা বন্ধ করেন। এটা অবশ্যই আল্লাহর প্রতি ভয় এবং রমজানে তাকওয়া বৃদ্ধির কারণে করেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, ঈদের চাঁদ দেখা গেলে আবার দাড়ি কেটে আগের মত গুনাহে লিপ্ত হন।
আসুন আমরা রমজানে শুরু করা সকল ভাল আমলগুলো বছরের বাকি মাসগুলোতেও চর্চা করি। আজকে থেকেই সকল ভাইয়েরা নিয়ত করে ফেলি যে, দাড়ি কাটার গুনাহে আর লিপ্ত হব না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামের হুকুমগুলো পালন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
"ধন্যবাদ"
Comments
Post a Comment