Posts

নবীজির (সা) চোখে শ্রেষ্ঠ মানুষ যারা

Image
  নবীজির (সা) চোখে শ্রেষ্ঠ মানুষ যারা চিত্র: কুরআন তেলাওয়াত আমাদের চোখে সেরা মানুষের সংজ্ঞা কী? অনেক পড়াশোনা জানা, অনেক সম্পদের অধিকারী ইত্যাদি। চলুন দেখে নিই আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূলের (সা) চোখে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের গুণাবলীগুলো। রাসূলের (সা) বিভিন্ন হাদীস থেকে সেরা মানুষের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আমরা জানতে পারি। হাদীসগুলো থেকে কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো। ১।তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা সে, যে কুরআন শিখে এবং শেখায়। (বুখারী, পর্ব: ফাজায়েলুল কুরআন, অধ্যায়: ২১ হাদীস নং: ৫০২৭) ২।নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী। (বুখারী, পর্ব: শিষ্টাচার, অধ্যায়: উত্তম চরিত্র, হাদীস নং: ৬০৩৫) ৩।তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় ভালো। (বুখারী, পর্ব: উকীল নিযুক্তকরণ, অধ্যায়: ৬, হাদীস নং: ২৩০৫) ৪।তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যার কাছ থেকে সবাই কল্যান আশা করে, অনিষ্টের আশংকা করে না। ( তিরমিজী, পর্ব: ফিতান, অধ্যায়: ৭৬, হাদীস নং: ২২৬৩/২৪৩২) ৫।তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে, যে তার পরিবারের নিকট ভালো। (ইবনে হিব্বান, পর্ব: বিবাহ, অধ্যায়: স্বামী-স্ত্রীর জীবনাচার,...

সালাতুদ দুহা আদায় করার নিয়ম:

Image
  চলুন আজকে সালাতুদ দুহা আদায় করি  এটি শ্রেষ্ঠতম নফল সালাত চিত্র: সালাতুদ দুহা আদায়  ফরজ-ওয়াজিব নামাজের পর যেই নফল নামাজের ব্যাপারে বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে তা হচ্ছে সালাতুদ দুহা। শ্রেষ্ঠতম নফল সালাত হচ্ছে তাহাজ্জুদের সালাত। শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে সালাতুদ দুহার অবস্থান তাহাজ্জুদের পরপরই। নিয়মিত সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন আমাদের উচিত এ সালাত আদায় করা। তাহলে আস্তে আস্তে এটি সারা মাসের ইবাদতে পরিনত হবে ইনশাআল্লাহ। সালাতুদ দুহা আমাদের কাছে ইশরাক ও চাশতের নামাজ বলে পরিচিত। সূর্যোদয়ের পর থেকে দ্বিপ্রহরের নিষিদ্ধ সময়ের আগ পর্যন্ত এ সালাত পড়া যায়। এই সময়ের মধ্যে আগে বা পরে পড়লে এই সালাতকে আলেমগণ ইশরাক, চাশত নামে অভিহিত করেছেন। মুসলিমস ডে অ্যাপের হোমপেজে সালাতের নিষিদ্ধ সময়ের ডানপাশে, "নফল সালাতের ওয়াক্ত" নামের একটি বাটন আছে। সেখানে ক্লিক করলে সালাতুদ দুহা সহ অন্যান্য নফল সালাতের সময় জানা যাবে। মধ্যাহ্ন বা দুহার সালাত সর্বনিম্ন ২ রাকাত থেকে শুরু করে ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়ার ব্যাপারে হাদীস পাওয়া যায়। এছাড়াও হাদীসের আলোকে এর চেয়ে বেশি পড়ার ব্যাপারেও অনুমোদন রয়েছে। যে যার...

জামায়াত ধরতে মসজিদে দৌঁড়ে যাওয়া

Image
  জামায়াত ধরতে মসজিদে দৌঁড়ে যাওয়া  একটি ভুল কাজ, যা থেকে বিরত থাকা উচিত চিত্র: জামায়াতে নামাজ আদায়  মসজিদে জামাত শুরু হয়ে গেলে বা জামাতের সময় ঘনিয়ে আসলে প্রায়ই আমরা দৌঁড়ে গিয়ে জামাতে সামিল হই। ইমাম যদি রুকুতে থাকেন তাহলে আমাদের দৌঁড়ের গতি বেড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনা ঘটার আশংকাও থাকে। জামাতে সামিল হতে এভাবে দৌঁড়ানো, সরাসরি আল্লাহর রাসূলের (সা) সুস্পষ্ট হাদীসের লংঘন! নিচে অনেকগুলো হাদীসের মধ্য থেকে দুইটি হাদীস উল্লেখ করা হলো।  আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি যে,  ‘‘যখন নামাযের জন্য ইক্বামত (তাকবীর) দেওয়া হয় তখন তোমরা তাতে দৌড়ে আসবে না, বরং তোমরা গাম্ভীর্য-সহকারে স্বাভাবিকরূপে হেঁটে আসবে। তারপর যতটা নামায (ইমামের সাথে) পাবে, পড়ে নেবে। আর যতটা ছুটে যাবে, ততটা (নিজে) পূরণ করে নেবে।’’ (সহীহুল বুখারী ৬৩৬, ৯০৮, মুসলিম ৬০২, তিরমিযী ৩২৭, নাসায়ী ৮৬১, আবূ দাউদ ৫৭২, ৫৭৩, ইবনু মাজাহ ৭৭৫, আহমাদ ৭১৮৯, ৭২০৯, ৭৬০৬, ৭৭৩৫, ২৭৪৪৫, ৮৭৪০, ১০৫১২, ১৩১৪৬, মুওয়াত্তা মালিক ১৫২, দারেমী ১২৮২) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ...

যাকাত প্রদানের গুরুত্ব ও হুশিয়ারি

Image
যাকাত অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় কর্তব্য। চিত্র: যাকাত প্রদান   পবিত্র কোরআনের বহুসংখ্যক আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর এ দায়িত অর্পণ করেছেন। কোরআন শরীফে বহু স্থানে সালাত বা নামাজের নির্দেশের পাশপাশি যাকাত আদায়ের অনুশাসনের কথা বর্ণিত হয়েছে।  যারা যাকাত আদায় করে না আল্লাহ্ তাদেরকে হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন যে,  ‘যারা সোনা রূপা (অর্থ-সম্পদ) পুঞ্জিভূত করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। এমন একদিন আসবে যে দিন সে সব সোনা-রূপা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, তারপর তা দিয়ে তাদের পূর্বাদেশ, মুখমন্ডল ও পিঠ আগুনে ঝলসানো হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা ধনসম্পদ কুক্ষিগতকরণে কালাতিপাত করেছো, কিন্তু তোমরা যাকাত আদায় করোনি। এটি হলো তোমাদের সেই গোনাহের শাস্তি। এখন তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করো।’ (সূরা তাওবা ৩৪-৩৫)   বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স) বলেছেন,  ‘যারা যাকাত আদায় করে না তারা শেষ বিচারের দিন দেখতে পাবে তাদের সেই সব ধন-সম্পদ ভয়ংকর সাপ হয়ে তাদের দেহ জড়িয়ে ধরছে। এসব বিষাক্ত সাপ তাদের দেহকে কঠিনভাবে নি...

কুরআনের কিছু তথ্য

Image
  ইসলামী কিছু সাধারণ- জ্ঞান: ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনে মোট সূরা কতটি? উঃ১১৪ টি। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরার নাম কি? উঃ ফাতিহা। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনে সবচেয়ে বড় সূরা কোনটি? উঃ সূরা বাকারা। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনে সবচেয়ে ছোট সূরা কোনটি?  উঃ সূরা কাওছার। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়াত কোনটি এবং কোন সূরায়?  উঃ সূরা বাকারার ২৮২ নংআয়াত। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনেরর মধ্যে সবচেয়ে ফযিলত পূর্ণ আয়াত কোনটি?  উঃ আয়াতুল কুরশী। ⭕প্রঃফরয নামাযের পর কোন আয়াতটি পাঠ করলে, মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে যেতে কোন বাধা থাকে না?  উঃ আয়াতুল কুরশী। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি পাঠ করলে, কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়? উঃ সূরা মূলক। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান? উঃ সূরা ইখলাস। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার প্রতি ভালবাসা থাকলে, মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?  উঃ সূরা ইখলাস। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি কুরআনের চতুর্থাংশের সমপরিমাণ? উঃ সূরা কাফিরূন। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি জুমআর দিন বিশেষ ভাবে পাঠ করা মুস্তাহাব?  উঃ সূরা কাহাফ। ⭕প্রঃ পবিত্র কুরআনের কো...

খেজুর নিয়ে আল্লাহ কি বলেছেন

Image
খেজুর নিয়ে আল্লাহ কি বলেছেন: চিত্র: খেজুর  রমাদান মাস চলছে। এ মাসে আশা করা যায় আমরা সবাই কমবেশি খেজুর খাই। আজ একটা খেজুর হাতে নিন। তারপর সেটা খেয়ে তার আঁটিটা হাতে রাখুন। দেখবেন সেটা একটা হালকা আবরণে বেষ্টিত। . এরপর সেটার পেটের কাটা অংশের দিকে খেয়াল করলে দেখবেন একটা সুতা আলগা হয়ে আছে। . তারপর পেটের উল্টা দিকের ঠিক মাঝখানে দেখবেন একটা বিন্দু আছে। . চিত্র: খেজুরের কিছু অংশ  এবার নিচের আয়াত তিনটা মনযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন। 🕳️ (এক) وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِن قِطْمِيرٍ (فاطر: 13) “আর তোমরা আল্লাহ ব্যতিত যাদেরকে ডাকো (অন্যকিছু কে সৃষ্টিকর্তা ভেবে পূজা করে যারা ), তারা খেজুরের তুচ্ছ আঁটির আবরণেরও অধিকারী নয়।“ এখানে ‘ক্বিতমির’ শব্দটিই হলো সেই আবরণ যার দ্বারা খেজুরের আঁটি বেষ্টিত থাকে। 🕳️ (দুই) فَمَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَأُولَٰئِكَ يَقْرَءُونَ كِتَابَهُمْ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلا (الإسراء: 71) “যাদেরকে তাদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি ‘ফাতিল’ পরিমানও জুলুম করা হবেনা।“ আর এখানে ‘ফাতিল’ হলো সেই আলগা সুত...

আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন যারা

  আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন যারা আরবি হাদিস  وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ:« سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ في ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إلاَّ ظِلُّهُ: إمَامٌ عَادِلٌ، وَشَابٌّ نَشَأ في عِبَادَةِ الله تَعَالَى، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ بِالمَسَاجِدِ، وَرَجُلاَنِ تَحَابّا في اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيهِ وتَفَرَّقَا عَلَيهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأةٌ ذَاتُ مَنصَبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إنِّي أخَافُ الله، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ، فَأخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ الله خَالِياً فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ .  বাংলা অনুবাদ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না; (তারা হল,) ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা), সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ তাআলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়, সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদসমূহের সাথে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার ...

সাত আসমান জমিন সম্পর্কে কিছু ধারনা

Image
সাত আসমান জমিন সম্পর্কে কিছু ধারনা   ২২৮ টি দেশ নিয়ে এই পৃথিবী।  পৃথিবী থেকে সুর্য ১৩ লক্ষ গুন বড়। চিত্র: সৌরজগত   ব্যাটেল জুইস নামে একটি তারা আছে, যা সূর্যের চেয়ে ৩৩ কোটি গুণ বড়। আল্লাহু আকবর। প্রক্সিমা সেন্ট্রাই, আলফা সেন্ট্রাই, ব্যাটেল জুইস এরকম ৫০০ বিলিয়ন তারকা নিয়ে গঠিত গ্যালাক্সি। আল্লাহ তায়ালা কোটি কোটি গ্যালাক্সি সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রতগামী যান Apollo 11. সেকেন্ডে চলে ১১ কিঃমিঃ বেগে। মিনিটে চলে ৬৬০ কিঃ মিঃ বেগে, ঘন্টায় চলে ৩৯ হাজার কিঃমিঃ বেগে।  যদি কেউ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের তারকা প্রক্সিমা সেন্ট্রাই Apollo 11 তে চড়ে যেতে চায়, সময় লাগবে ১ লক্ষ ১৫ হাজার বছর। যাহা কোন ক্রমেই সম্ভব নহে। গ্যালাক্সি, সুপার নোভা, ব্লাক হোল এগুলো ১ম আকাশ নয়।  * ১ম আকাশের মহাশুন্য, তারপর ১ম আকাশ।  *তারপর ২য় আকাশের মহাশুন্য, তারপর ২য় আকাশ। *তারপর ৩য় আকাশের মহাশুন্য, তারপর ৩য় আকাশ। *তারপর ৪র্থ আকাশের মহাশুন্য, তারপর ৪র্থ আকাশ। *তারপর ৫ম আকাশের মহাশুন্য, তারপর ৫ম আকাশ। *৬ষ্ঠ আসমানে একটা গাছ আছে। গাছটির নাম সিদরাতুলমুনতাহা।  বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ) বল...

যে সকল কারণে রোজা ভাঙ্গে না

Image
  কিছু কাজ এমন আছে যার কারণে রোজা ভাঙে না।  এ কার্যগুলো সম্পাদন হলে রোজা চালিয়ে নিতে হবে। রোজা ভেঙে গেছে মনে করে পানাহার করা যাবে না। এরকম কিছু কাজ নিচে সংক্ষেপে দেয়া হলো। যেগুলোর কারণে রোজা নষ্ট হয় না। muslimbookbd.blogspot.com # রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করলে রোজা ভাঙে না। তবে স্মরণ হওয়া মাত্রই পানাহার ছেড়ে দিতে হবে। # চোখে ওষুধ-সুরমা, মাথায় বা শরীরে তেল লাগালে রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করলেও অসুবিধা নেই। # অনিচ্ছাকৃত বমি হলে (মুখ ভরে হলেও) রোযা ভাঙ্গবে না। তেমনি বমি মুখে এসে নিজে নিজে ভেতরে চলে গেলেও রোযা ভাঙ্গবে না। # মশা-মাছি, কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি অনিচ্ছাকৃত পেটের ভেতর ঢুকে গেলেও রোযা ভাঙ্গবে না। অনুরূপভাবে ধোঁয়া বা ধুলোবালি  অনিচ্ছাকৃতভাবে গলা বা পেটের ভেতর ঢুকে গেলে রোযা ভাঙ্গবে না। # স্বপ্নদোষ হলে রোযা ভাঙ্গবে না। # চোখের দু’ এক ফোটা পানি মুখে চলে গেলে রোযার ক্ষতি হয় না। তবে তা যদি গলার ভেতর চলে যায় তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। # সুস্থ অবস্থায় রোযার নিয়ত করার পর যদি অজ্ঞান বা অচেতন হয়ে যায় তাহলে রোযা নষ্ট হবে না। # রোজা অবস্থায় ইনসুলিন নিলে রোজ...

রমজানের ২১টি বিশেষ আমল

Image
রমজানের ২১টি বিশেষ আমল   বছর ঘুরে আবার এলো মাহে রমজান। এই রমজানে ২১টি বিশেষ আমল আছে। অন্যান্য আমলের পাশাপাশি আমরা এগুলো করতে পারি। এর দ্বারা আশা করা যায় রমজানের পুরোপুরি ফজিলত অর্জিত হবে। যখন রমজানের চাঁদ দেখব আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করব। বলব, আল্লাহ এই চাঁদ আমার ঈমান, আমল, বরকতের জন্য কবুল করে নাও। এরপরে দিনের বেলায় তো রোজা আছি আলহামদুলিল্লাহ। রোজাটা আমরা রাখার মতো করে রাখব। ঠিক রাতের বেলা আমরা কিয়ামুল লাইল করব। আল্লাহর রাসুল বলেছেন, তোমরা রাতের বেলা সালাত আদায় কর। এই সালাত কিয়ামতের ময়দানে তোমার জন্য শাফায়েত হিসেবে পেশ করা হবে আল্লাহর কাছে। এটা তখন আল্লাহর কাছে তোমার জন্য সুপারিশ করবে। এ জন্য কেয়ামুল লাইল পড়ব। তারাবির সালাত পড়ব, তাহাজ্জুত পড়ব। ইফতার করব এবং ইফতারটাকে আমরা বিলম্বে করব না। কারণ ইফতার যদি সময়মত করি এর মধ্যেই কল্যাণ আছে রাসুল সা. বলেছেন, যতদিন আমার জাতি কল্যাণের পথে থাকবে ততদিন তারা সময়মত ইফতার করবে। ইফতারে কী খেলাম না খেলাম তার দিকে তাকাব না। আল্লাহর রাসুল সা. খেজুর, পানি, দুধ দিয়ে ইফতার করেছেন। আমরা এখন খাবারের পেছনে ছুটছি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে রমজান যেন খাবা...

ইফতারের দোয়া ও ইফতারের নিয়ত

Image
  ই ফতারের দোয়া। ইফতারের নিয়ত বাংলা এবং আরবি অর্থসহ নিজে জানুন এবং অন্যকে জানান- ইফতারের পূর্বে যে দোয়া পড়বেন ইফতারের পূর্বে এই দোয়া পড়িতে হয়, বাংলা উচ্চারণ:  ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফত্বারতু।’ বাংলা অর্থ:  ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।  (আবু দাউদ মুরসাল, মিশকাত) ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয় ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয় তাই এ সময় বেশি বেশি দুআ-ইস্তিগফার করতে থাকবে। বিশেষত এই দোয়া করবে- اَللهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِيْ. رواه ابن ماجه، وقال البوصيري في الزوائد : هذا هديث صحيح، ورجاله ثقات. হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার সেই রহমতের উসীলায় প্রার্থনা করছি যা সকল বস্ত্ততে পরিবেষ্টিত, তুমি আমাকে মাফ করে দাও।-সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ১২৫, হাদীস : ১৭৫৩ ইফতারের সময় যে দোয়া পড়তে হয় উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।’ অর্থ: হে আল্লাহ! আ...

রমজানের খাবারে আসলেই কি কোনো হিসাব নাই?

Image
  রমজানের খাবারে আসলেই কি কোনো হিসাব নাই? সমাজে প্রচলিত একটি ভুল ধারনা সমাজের কিছু মানুষ তাদের ভোগ বিলাসিতাকে জায়েজ করার জন্য এরকম একটা কথার প্রচলন করেছে। তারা বলে থাকে- সাহরি ও ইফতারে যা খাওয়া হবে এর কোনো হিসাব দিতে হবে না। নাউজুবিল্লাহ! এই ধারণাটা সাওমের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। সাহরি ইফতারে অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে রামাদানে আমাদের ইবাদত করার সুযোগ নষ্ট হয়। সাহরি খাওয়ার উদ্দেশ্য এই নয় যে সারা দিন খেতে পারব না, তাই সারা দিনের খাবার একসাথে খেয়ে নিই। ইফতারের উদ্দেশ্য এই হওয়া উচিত নয় যে, সারা দিন খাই নি এখন সেটা উসুল করে নিই। সারা বছর আমরা যে পরিমাণ খাবার খাই, অনেকেই রামাদানে তার চেয়ে বেশি খেয়ে থাকি। এজন্য আমরা ইবাদতে মন দিতে পারি না। রামাদানে আত্মা যে পরিশুদ্ধ হওয়ার কথা ছিল, সেটা থেকে বঞ্চিত হই। রামাদান আমাদের অনেকের জীবনে আসে খাওয়ার মাস হিসাবে। কিন্তু হওয়ার কথা ছিল উল্টা। তাই সাহরি-ইফতারের খানার কোনো হিসাব নাই, এমন চিন্তা করার অবকাশ ইসলামে নাই। নবীজি (সা) বলেছেনঃ মানুষ পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোন পাত্র ভর্তি করে না। (যতটুকু খাদ্য গ্রহণ করলে পেট ভরে পাত্র থেকে ততটুকু খাদ্য উঠানো কোন ব্যক্তির ...

রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি

Image
  আমরা কিভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিব? এই মহান মাসে কোন আমলগুলো অধিক উত্তম? উত্তর আলহামদু লিল্লাহ।. এক  : প্রিয় ভাই, আপনি একটি ভাল প্রশ্ন করেছেন। আপনি রমজান মাসের প্রস্তুতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন। এমন একটি সময়ে আপনি প্রশ্নটি করেছেন যখন সিয়াম সম্পর্কে বহু মানুষের ধ্যান ধারণা পাল্টে গেছে। তারা এই মাসকে খাবার-দাবার, পান-পানীয়, মিষ্টি-মিষ্টান্ন, রাত জাগা ও স্যাটেলাইট চ্যানেল উপভোগ করার মৌসুম বানিয়ে ফেলেছে। এর জন্য তারা রমজান মাসের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে; এই আশংকায় যে- কিছু খাদ্যদ্রব্য কেনা বাদ পড়ে যেতে পারে অথবা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এভাবে তারা খাদ্যদ্রব্য কেনা, হরেক রকম পানীয় প্রস্তুত করা এবং কী অনুষ্ঠান দেখবে, আর কী দেখবে না সেটা জানার জন্য স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর প্রোগ্রামসূচী অনুসন্ধান করার মাধ্যমে এর জন্য প্রস্তুতি নেয়। অথচ রমজান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই তারা অজ্ঞ। তারা এ মাসকে ইবাদত ও তাকওয়ার পরিবর্তে উদরপূর্তি ও চক্ষুবিলাসের মৌসুমে পরিণত করে। দুই  : অপরদিকে কিছু মানুষ রমজান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন। তারা শাবান মাস থেকেই রমজানের ...

দাড়ি রাখা কি সুন্নাত নাকি ওয়াজিব?

Image
  পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা কি সুন্নাহ নাকি ওয়াজিব? দাড়ি কাটলে বা শেভ করলে কি গুনাহ হবে? দাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়-চিহ্ন হিসেবে গণ্য। দাড়ি লম্বা করা এবং মোচ খাটো করা দ্বীনে তাওহীদের শিক্ষা, যা সকল নবীগণের (আঃ) শরীয়তে ছিল। দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েয।  যেহেতু দাড়ি রাখা সকল নবীর পবিত্র রীতি ছিল তাই একে ‘সুন্নত’ও বলা হয়। এতে কারো কারো ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, দাড়ি লম্বা করাও অন্যান্য সাধারণ সুন্নতের মতো একটি সুন্নত। অতএব তা করলে ভালো, না করলেও গুনাহ নেই! এটা একদম ভুল ধারণা।  দাড়ি এমন কোনো সুন্নত নয়, যা রাখা-না রাখার স্বাধীনতা রয়েছে। এটা একটা ‘সুন্নতে ওয়াজিবা’। অর্থাৎ সুন্নতে মুয়াক্কাদা থেকেও এর গুরুত্ব বেশি এবং এটা পরিত্যাগ করলে গুনাহ হয়। দাড়ি কামানো বা এক মুষ্ঠি থেকে ছোট রাখা এমন এক গুনাহ, যা মানুষের সঙ্গে সর্বদা সংযুক্ত থাকে এবং এমন একটি গুনাহ, যা গোপন করারও কোনো উপায় নেই। প্রতি মুহূর্তে এটার জন্য গুনাহ লেখা হতে থাকে। এটা একটা প্রকাশ্য গুনাহ, যা খুবই ভয়াবহ। তদুপরি দাড়ির সঙ্গে এই আচরণটা করা হয় সুন্নতের প্রতি অনীহা এবং অনৈস...

জুম্মার দিনের কিছু আমল

Image
  জুমআর দিনের মাসনূন কিছু আমল    সূরা কাহফ পড়া, গোসল করা, আগে আগে মসজিদে যাওয়া ইত্যাদি যদি এমন একটা অফার পাওয়া যায় যে, "প্রতি কদমে এক বছর নফল রোজা, আর এক বছর নফল নামাজের সওয়াব আমাদের আমলনামায় লেখা হবে" আমরা কি কেউ তা মিস করব? নিশ্চয়ই না! জুমআর দিন ৫টি কাজের মাধ্যমে জুমআর নামাজে অংশ নিলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার প্রতি কদমে কদমে এক বছরের নফল রোজা ও এক বছরের নফল সালাতের সওয়াব দান করেন। সুবহানাল্লাহ!!! অর্থাৎ কারো বাসা থেকে মসজিদের দূরত্ব যদি ১০০ কদম হয়, তাহলে এই পাঁচটা কাজ করলে সে ব্যক্তি ১০০ বছর নফল রোজা ও ১০০ বছর নফল সালাতের সওয়াব পেয়ে যাবে। পাঁচটি কাজ হচ্ছেঃ ১। গোসল করা  ২। আগে আগে মসজিদে আসা  ৩। পায়ে হেটে মসজিদে আসা  ৪। ইমামের কাছাকাছি বসা।  ৫। অনর্থক কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা। রেফারেন্সঃ ========== আওস ইবনু আওস আস-সাক্বাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমু’আহ্‌র দিন গোসল করবে এবং (স্ত্রীকেও) গোসল করাবে, প্রত্যুষে ঘুম থেকে জাগবে এবং জাগাবে (সকাল-সকাল ও আগে-আগে (মসজিদে ...

রোজা রেখে যে কাজগুলো বৈধ

Image
  রোজা রেখে যে কাজগুলো বৈধ রমাদান আসার আগেই জেনে নিই রোজার মাসআলা সিয়াম একজন মুমিনের জন্য অনেক আনন্দের একটা বিষয়। আমাদের সালাফরা সারা বছর অপেক্ষারত থাকতেন সিয়াম পালনের মাধ্যমে আল্লাহর অধিক নৈকট্য অর্জন করার জন্য। আমরাও রমাদান মাসের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকি। রমাদানের প্রস্তুতি হিসাবে আসুন জেনে নিই কিছু প্রয়োজনীয় মাসআলা। সিয়ামরত অবস্থায় কিছু কাজ আমাদের জন্য বৈধ আর কিছু অবৈধ। এই বৈধ -অবৈধ কাজগুলোর মধ্যে অনেকগুলো আমাদের নিকট সুস্পষ্ট নয় বস্তুতই ঐ নির্দিষ্ট কাজটা কি আমাদের সিয়ামের কোন সমস্যা করবে কি করবে না! সময়ের পরিবর্তনে অনেক নতুন উদ্ভূত সমস্যার মুখোমুখি হই আমরা। এর ফলে কিছু আধুনিক মাসায়িলের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। যেগুলো সচরাচর আলোচনা না হওয়ায় আমাদের অনেকের মধ্যে সংশয় বিরাজ করে। সিয়ামরত অবস্থায় বৈধ কাজ :- || # ভুলে_পানাহার || কেউ যদি ভুলে পানাহার করে ফেলে তবে এতে সিয়ামের কোন ক্ষতি হবে না। তবে স্মরণ আসা মাত্রই সর্বপ্রকার আহার থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসূল ﷺ বলেন - من نسي وهو صائم فأكل أو شرب فليتم صومه؛ فإنما أطعمه الله وسقاه অর্থাৎ - যদি কেউ সিয়াম পালনরত অবস্তা ভুলে যায় (যে সে সিয়া...

আয়াতুল কুরসি

Image
আয়াতুল কুরসি  اللَّهُ لا إِلهَ إِلّا هُوَ الحَيُّ القَيّومُ لا تَأخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَومٌ لَهُ ما فِي السَّماواتِ وَما فِي الأَرضِ مَن ذَا الَّذي يَشفَعُ عِندَهُ إِلّا بِإِذنِهِ يَعلَمُ ما بَينَ أَيديهِم وَما خَلفَهُم وَلا يُحيطونَ بِشَيءٍ مِن عِلمِهِ إِلّا بِما شاءَ وَسِعَ كُرسِيُّهُ السَّماواتِ وَالأَرضَ وَلا يَئودُهُ حِفظُهُما وَهُوَ العَلِيُّ العَظيمُ আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ – Ayatul Kursi Bangla আল্লাহু লা— ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্কাইয়্যুম, লা- তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিসসামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াশ ফাউ ইনদাহু— ইল্লা বি ইজনিহ, ইয়া লামু মা বাইনা- আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি— ইল্লা বিমা শা’—-আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আযী-ম। যে কথাটা না বললেই নয়, বাংলা ভাষা দিয়ে ১০০% শুদ্ধ  আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত  করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের পরামর্শ থাকবে আপনি অত্যন্ত সহজ ভাষা “আরবি” অতি সিগ্রই শিখে ফেলুন। কারন কোরআনের মদ্ধেই আল...